Skip to main content

সূরা আল-ফুরকান শ্লোক 18

قَالُوا۟
তারা বলবে
سُبْحَٰنَكَ
"সত্ত্বা আপনার পবিত্র মহান
مَا
না
كَانَ
ছিলো
يَنۢبَغِى
উচিত
لَنَآ
জন্যে আমাদের
أَن
যে
نَّتَّخِذَ
গ্রহণ করবো আমরা
مِن
থেকে
دُونِكَ
আপনার পরিবর্তে
مِنْ
কোন
أَوْلِيَآءَ
অভিভাবক
وَلَٰكِن
কিন্তু
مَّتَّعْتَهُمْ
আপনি ভোগ-সম্ভার দিয়েছেলেন তাদেরকে
وَءَابَآءَهُمْ
এবং তাদের পিতৃ পুরুষদেরকেও
حَتَّىٰ
শেষ পর্যন্ত
نَسُوا۟
তারা ভুলে গিয়েছিলো
ٱلذِّكْرَ
(আপনার) স্মরণ
وَكَانُوا۟
এবং তারা হয়েছিলো
قَوْمًۢا
জাতিতে
بُورًا
ধ্বংসপ্রাপ্ত"

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তারা বলবে ; ‘পবিত্র ও মহান তুমি। আমাদের জন্য শোভনীয় ছিল না যে তোমাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করব, বরং তুমি ওদেরকে আর ওদের পিতৃপুরুষদেরকে দিয়েছিলে পার্থিব ভোগ সম্ভার, পরিণামে তারা ভুলে গিয়েছিল (তোমার প্রেরিত) বাণী, যার ফলে তারা পরিণত হল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

ওরা বলবে, ‘পবিত্র ও মহান তুমি! তোমার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করতে পারি না।[১] তুমিই তো এদেরকে এবং এদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলে; পরিণামে ওরা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়েছিল।’ [২]

[১] অর্থাৎ, যখন আমরা নিজেরাই তুমি ছাড়া আর কাউকেও অভিভাবক কর্মবিধায়ক মনে করি না, তাহলে আমরা তাদেরকে কিরূপে বলতে পারে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাদেরকে অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক মনে কর?

[২] এটি হল শিরকের একটি কারণ। অর্থাৎ, পৃথিবীর ধন-সম্পদ ও বিলাস-সামগ্রীর আধিক্য তোমার স্মরণ হতে তাদেরকে দূরে রেখেছিল এবং ধ্বংস তাদের ভাগ্যে পরিণত হয়েছিল।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

তারা বলবে, ‘পবিত্র ও মহান আপনি! আপনার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অবিভাবকরূপে গ্রহণ করতে পারি না [১]; আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন; পরিণামে তারা যিকর তথা স্মরণ ভুলে গিয়েছিল এবং পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ে [২]।

[১] কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়বস্তুটি এসেছে। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছেঃ ‘‘যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবেন, এরা কি তোমাদেরই বন্দেগী করতো? তারা বলবেঃ পাক-পবিত্র আপনার সত্তা, আমাদের সম্পর্ক তো আপনার সাথে, এদের সাথে নয়। এরা তো জিনদের (অর্থাৎ শয়তান) ইবাদাত করতো। এদের অধিকাংশই তাদের প্রতিই ঈমান এনেছিল।” [সূরা সাবা ৪০-৪১] অনুরূপভাবে আরো বলা হয়েছেঃ “আর যখন আল্লাহ্‌ জিজ্ঞেস করবেন, হে মারইয়ামের ছেলে ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে তোমরা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে উপাস্যে পরিণত করো? সে বলবে, পাক-পবিত্র আপনার সত্তা, যে কথা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার জন্য কবে শোভন ছিল? আমি তো এদেরকে এমন সব কথা বলেছিলাম যা বলার হুকুম আপনি আমাকে দিয়েছিলেন, তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্‌র বন্দেগী করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব।” [সূরা আল-মায়েদাহঃ ১১৭]

[২] অর্থাৎ তারা ছিল সংকীর্ণমনা ও নীচ প্রকৃতির লোক। তিনি রিযিক দিয়েছিলেন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কিন্তু তারা সবকিছু খেয়েদেয়ে নিমকহারাম হয়ে গেছে এবং তাঁর প্রেরিত নবীগণ তাদেরকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তা ভুলে গেছে। [দেখুন-ফাতহুল কাদীর, বাগভী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

তারা বলবে, ‘আপনি পবিত্র মহান! আপনি ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের উচিত নয়, বরং আপনি তাদেরকে ও তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছেন, অবশেষে আপনার স্মরণকে তারা ভুলে গিয়েছিল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত কওমে পরিণত হয়েছিল।’

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

তারা বলবে -- ''তোমারই সব মহিমা! এটি আমাদের জন্য সমীচীন নয় যে তোমাকে বাদ দিয়ে আমরা অন্যান্য অভিভাবকদের গ্রহণ করব। কিন্তু তুমি তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগসম্ভার দিয়েছিলে, পরিণামে তারা ভুলে গিয়েছিল সাবধান-বাণী, ফলে তারা হয়েছিল একটি বিনষ্ট জাতি।’’