Skip to main content

সূরা নাহল শ্লোক 116

وَلَا
এবং না
تَقُولُوا۟
তোমরা বলো
لِمَا
ঐ বিষয়ে যা
تَصِفُ
বর্ণনা করে
أَلْسِنَتُكُمُ
তোমাদের জিহবাসমূহ
ٱلْكَذِبَ
মিথ্যা
هَٰذَا
"এটা
حَلَٰلٌ
হালাল
وَهَٰذَا
এবং এটা
حَرَامٌ
হারাম"
لِّتَفْتَرُوا۟
যাতে তোমরা রটাবে
عَلَى
উপর
ٱللَّهِ
আল্লাহর
ٱلْكَذِبَۚ
মিথ্যা
إِنَّ
নিশ্চয়ই
ٱلَّذِينَ
যারা
يَفْتَرُونَ
আরোপ করেছে
عَلَى
উপর
ٱللَّهِ
আল্লাহর
ٱلْكَذِبَ
মিথ্যা
لَا
না
يُفْلِحُونَ
তারা সফলকাম হয়

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তোমাদের জিহবা থেকে মিথ্যে কথা বেরোয় বলেই তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করার জন্য এমন কথা বলো না যে, এটা হালাল, আর এটা হারাম। যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে উদ্ভাবন করে, তারা কক্ষনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবার জন্য তোমরা বলো না, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম।’[১] যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে, তারা সফলকাম হবে না।

(১) এখানে ঐ সকল পশুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করে নিজেদের জন্য হারাম মনে করত। যেমন বাহীরা, সায়েবা, ওয়াসিলা এবং হাম ইত্যাদি। সূরা মায়িদাহ ৫;১০৩ এবং সূরা আনআম ৬;১৩৯-১৪০ নং আয়াতের টীকা দ্রষ্টব্য।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা রটনা করার জন্য তোমরা বলো না, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম [১]’। নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যা রটায়, সফলকাম হবে না।

[১] এ আয়াতটি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে, হালাল ও হারাম নির্দিষ্ট করার অধিকার আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। অন্য যে ব্যক্তিই বৈধতা ও অবৈধতার ফায়সালা করার ধৃষ্টতা দেখাবে সে নিজের সীমালংঘন করবে। নিজের হালাল ও হারাম করার স্বাধীন ক্ষমতাকে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ বলে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে এই যে, যে ব্যক্তি এ ধরনের বিধান তৈরী করে তার এ কাজটি দু'টি অবস্থার বাইরে যেতে পারে না। হয় সে দাবী করছে যে, যে জিনিসকে সে আল্লাহর কিতাবের অনুমোদন ছাড়াই বৈধ বা অবৈধ বলছে তাকে আল্লাহ বৈধ বা অবৈধ করেছেন। অথবা তার দাবী হচ্ছে, আল্লাহ নিজের হালাল ও হারাম করার ক্ষমতা প্রত্যাহার করে মানুষকে স্বাধীনভাবে তার নিজের জীবনের শরীয়াত তৈরী করার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। এ দু’টি দাবীর মধ্য থেকে যেটিই সে করবে তা নিশ্চিতভাবেই মিথ্যাচার এবং আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ ছাড়া আর কিছুই হবে না। আল্লামা ইবনে কাসীর রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ যে কোন বিদ'আতকারীও এ আয়াতের হুকুমের আওতায় পড়বে। কারণ তারাও আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন কিছু হালাল বা হারাম ঘোষণা করছে।

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর যেহেতু তোমাদের জিহবা মিথ্যা বলায় পটু, তাই তোমরা বলো না -- ''এটি বৈধ ও এটি অবৈধ’’, -- আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা আরোপ ক’রে। নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র নামে মিথ্যা রচনা করে তারা উন্নতিলাভ করবে না।