Skip to main content

সূরা আল আ'রাফ শ্লোক 26

يَٰبَنِىٓ
হে সন্তান
ءَادَمَ
আদমের
قَدْ
নিশ্চয়ই
أَنزَلْنَا
অবতীর্ণ করেছি আমরা
عَلَيْكُمْ
উপর তোমাদের
لِبَاسًا
পোশাক
يُوَٰرِى
তা ঢেকে রাখে
سَوْءَٰتِكُمْ
লজ্জাস্থানগুলো তোমাদের
وَرِيشًاۖ
ও শোভা বর্ধকরূপে
وَلِبَاسُ
ও পোশাক
ٱلتَّقْوَىٰ
তাকওয়ার
ذَٰلِكَ
এটাই
خَيْرٌۚ
উত্তম
ذَٰلِكَ
এটা
مِنْ
অন্তর্ভুক্ত
ءَايَٰتِ
নিদর্শনাবলীর
ٱللَّهِ
আল্লাহর
لَعَلَّهُمْ
সম্ভবতঃ তারা
يَذَّكَّرُونَ
শিক্ষা গ্রহন করবে

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

হে আদাম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পোষাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। আর তাকওয়ার পোশাক হচ্ছে সর্বোত্তম পোশাক। ওটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

হে বনী আদম (হে মানবজাতি)! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি।[১] আর সংযমশীলতার পরিচ্ছদই[২] সর্বোৎকৃষ্ট।[৩] এ হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম; যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

[১] سَوْأتٌ হল শরীরের সেই অংশগুলো, যা ঢেকে রাখা জরুরী। যেমন, লজ্জাস্থান। আর رِيْشًَا হল সেই পোশাক, যা সৌন্দর্য প্রকাশ ও বেশভূষার জন্য পরিধান করা হয়। অর্থাৎ, পোশাকের প্রথম প্রকার হল প্রয়োজনীয় বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত এবং তার দ্বিতীয় প্রকার হল পরিপূরক ও বাড়তি। মহান আল্লাহ উভয় প্রকার পোশাকের জন্য সরঞ্জাম ও উপাদান সৃষ্টি করেছেন।

[২] এ থেকে কারো কারো নিকট সেই পোশাক উদ্দিষ্ট, যা সংযমশীল পরহেযগারগণ কিয়ামতের দিন পরিধান করবেন। কারো নিকট এর অর্থ ঈমান এবং কারো নিকট নেক আমল ও আল্লাহভীরুতা ইত্যাদি। তবে সবগুলির অর্থ কাছাকাছি প্রায় একই, আর তা হল এমন পোশাক, যা পরিধান করে মানুষ (প্রয়োজনীয় অঙ্গ আবৃত করবে,) অহংকার করার পরিবর্তে আল্লাহকে ভয় করবে এবং ঈমান ও নেক আমলের দাবীসমূহ পূরণ করার প্রতি যত্ন নেবে।

[৩] এ থেকে এ অর্থও ফুটে ওঠে যে, সৌন্দর্য ও সাজ-সজ্জার জন্য যদিও পোশাক পরা বৈধ, তবুও পোশাকের ব্যাপারে এমন সাদামাঠা হওয়া বেশী উত্তম, যাতে পরহেযগারী ও আল্লাহভীরুতা প্রকাশ পায়। (পোশাক যেহেতু আল্লাহর দান, সেহেতু তা পরিধানের সময় তাঁর যিকর করা কর্তব্য, اَلْحَمْدُ للهِ الَّذِيْ كَسَانِيْ هذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلاَ قُوَّةٍ। অর্থাৎ, সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে এই কাপড় পরিয়েছেন এবং আমার নিজস্ব কোন শক্তি ও চেষ্টা ছাড়াই তা আমাকে দান করেছেন। এই দু'আ কোন কাপড় পরিধান করার সময় পাঠ করলে পূর্বেকার (স্বাগীরাহ) গোনাহ মাফ হয়ে যায়। (সুনানে আরবাআহ)

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

হে বনী আদম! অবশ্যই আমারা তোমাদের জন্য পোষাক নাযিল করেছি, তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকা ও বেশ-ভুষার জন্য। আর তাকওয়ার পোষাক [১], এটাই সর্বোওম [২]। এটা আল্লাহ্‌র নিদর্শসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে [৩]।

তৃতীয় রুকূ’

[১] (وَلِبَاسُ التَّقْوٰى) শব্দ থেকে এদিকেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বাহ্যিক পোষাক দ্বারা গুপ্ত-অঙ্গ আবৃত করা ও সাজ-সজ্জা করার আসল উদ্দেশ্য তাকওয়া ও আল্লাহভীতি। এ আল্লাহভীতি পোষাকের মধ্যেও এভাবে প্রকাশ পায়। তাই পোষাকে যেন গুপ্তাঙ্গগুলি পুরোপুরি আবৃত হয়। উলঙ্গের মত দৃষ্টিগোচর না হয়। অহংকার ও গর্বের ভঙ্গিও না থাকা চাই। অপব্যয় না থাকা চাই। মহিলাদের জন্য পুরুষের পোষাকের মত আর পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাকের মত না হওয়া চাই। পোষাকে বিজাতির অনুকরণ না হওয়া চাই। এর প্রত্যেকটির ব্যাপারেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

[২] এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত আদম সন্তানকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ তোমাদের পোষাক আল্লাহ তা'আলার একটি মহান নেয়ামত। একে যথার্থ মূল্য দাও। এখানে মুসলিমদেরকে সম্বোধন করা হয়নি- সমগ্র বনী-আদমকে করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, গুপ্তাঙ্গ আচ্ছাদন ও পোষাক মানব জাতির একটি সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রয়োজন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এ নিয়ম পালন করে। অতঃপর এর বিশদ বিবরণে তিন প্রকার পোশাকের উল্লেখ করা হয়েছে।

(এক)

(لِبَاسًا يُّوَارِيْ سَوْاٰتِكُمْ)

-এখানে (يُوَارِي) শব্দটি (مواراة) থেকে উদ্ভুত, এর অর্থ আবৃত করা। আর (سَوْاٰت) শব্দটি (سوءة) এর বহুবচন, এর অর্থ মানুষের ঐসব অঙ্গ, যেগুলো খোলা রাখাকে মানুষ স্বভাবতই খারাপ ও লজ্জাকর মনে করে। উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাদের মঙ্গলার্থে এমন একটি পোষাক সৃষ্টি করেছি, যা দ্বারা তোমরা গুপ্তাঙ্গ আবৃত করতে পার। মুজাহিদ বলেন, আরবের কিছু লোক আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ উলঙ্গ হয়ে সম্পাদন করত। আবার কোন কোন লোক যে পোষাক পরিধান করে তাওয়াফ করেছে সে পোষাক আর পরিধান করত না। এ আয়াতে তাদেরকেও উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [তাবারী]

(দুই) (وَرِيْشًا) -অর্থাৎ সাজ-সজ্জার জন্য মানুষ যে পোষাক পরিধান করে, তাকে (ريش) বলা হয়। অর্থ এই যে, গুপ্তাঙ্গ আবৃত করার জন্য তো সংক্ষিপ্ত পোষাকই যথেষ্ট হয়; কিন্তু আমি তোমাদেরকে আরো পোষাক দিয়েছি, যাতে তোমরা তা দ্বারা সাজ-সজ্জা করে বাহ্যিক দেহাবয়বকে সুশোভিত করতে পার। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, এখানে ‘রীশ’ বলে ‘সম্পদ' বোঝানো হয়েছে। [তাবারী] বাস্তবিকই পোষাক একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সম্পদ।
(তিন) আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তৃতীয় এক প্রকার পোশাকের কথা উল্লেখ করে বলেছেনঃ

(وَلِبَاسُ التَّقْوٰى ۙ ذٰلِكَ خَيْرٌ)

অর্থাৎ তা হচ্ছে তাকওয়ার পোষাক আর এটিই সর্বোত্তম পোষাক। ইবন আব্বাস ও উরওয়া ইবন যু বাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমের তাফসীর অনুযায়ী তাকওয়ার পোষাক বলে সৎকর্ম ও আল্লাহভীতি বুঝানো হয়েছে। এটি মানুষের চারিত্রিক দোষ ও দুর্বলতার আবরণ এবং স্থায়ী কষ্ট ও বিপদাপদ থেকে মুক্তিলাভের উপায়। এ কারণেই এটি সবোত্তম পোষাক। কাতাদা বলেন, তাকওয়ার পোষাক বলে ঈমানকে বোঝানো হয়েছে। [তাবারী]

[৩] অর্থাৎ মানুষকে এ তিন প্রকার পোষাক দান করা আল্লাহ তা'আলার শক্তির নিদর্শনসমূহের অন্যতম- যাতে মানুষ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

হে বনী আদম, আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক, তা উত্তম। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

হে আদম-সন্তানগণ! আমরা তোমাদের জন্য নিশ্চয়ই পোশাক পাঠিয়েছি তোমাদের লজ্জা ঢাকবার ও বেশভূষার জন্য। আর ধর্মপরায়ণতার পোশাক -- তাই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ হচ্ছে আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলী থেকে, যেন তারা মনে রাখে।