Skip to main content

সূরা আদ-দাহর শ্লোক 1

هَلْ
কি
أَتَىٰ
এসেছে
عَلَى
উপর
ٱلْإِنسَٰنِ
মানুষের
حِينٌ
এক সময়
مِّنَ
থেকে
ٱلدَّهْرِ
সীমাহীন কালের
لَمْ
না
يَكُن
সে ছিল
شَيْـًٔا
কিছুই
مَّذْكُورًا
উল্লেখযোগ্য

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

মহাকালের মধ্য হতে মানুষের উপর কি এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখ করার যোগ্য কোন বস্তুই ছিল না?

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

অবশ্যই মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। [১]

[১] هَلْ এখানে قَدْ অর্থে ব্যবহূত। الإنسَان বলতে কেউ কেউ 'আবুল বাশার' অর্থাৎ, প্রথম মানুষ আদম (আঃ)-কে বুঝিয়েছেন। আর حِيْنٌ (এক সময়) বলতে রূহ ফুঁকার পূর্বের কালকে বুঝানো হয়েছে, আর তা ছিল ৪০ বছর। অধিকাংশ মুফাসসেরগণের নিকট 'মানুষ' শব্দটি শ্রেণীবাচক অর্থে ব্যবহার হয়েছে এবং তাঁরা حِيْنٌ (এক সময়) বলতে গর্ভধারণের সময়কে বুঝিয়েছেন। যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। এতে আসলে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যে, সে সুন্দর এক আকৃতি নিয়ে পৃথিবীতে আসার পর প্রতিপালকের সামনে অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে। তাকে তো নিজের অবস্থা স্মরণ রাখা উচিত যে, আমি তো সে-ই, যার কোন অস্তিত্ব ছিল না, তখন আমাকে কে চিনত?

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

কালপ্রবাহে মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি [১] যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না [২] ?

[১] সূরা ‘আল-ইনসান’ এর অপর নাম সূরা আদ্-দাহ্র। সাহাবায়ে কিরাম সূরাটিকে সূরা ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ বলতেন। [দেখুন, বুখারী; ৮৮০; মুসলিম; ৮৭৯] এতে মানব সৃষ্টির আদি-অন্ত, কর্মের প্রতিদান ও শাস্তি, কেয়ামত জান্নাত ও জাহান্নামের বিশেষ বিশেষ অবস্থার উপর বিশুদ্ধ ও সাবলীল ভঙ্গিতে আলোকপাত করা হয়েছে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুক্রবার দিন ফজরের সালাতে “সূরা আলিফ লাম মীম তানযীল আস-সাজদাহ” এবং “হাল আতা আলাল ইনসান” সূরা পড়তেন। [বুখারী; ৮৯১, মুসলিম; ৮৮০, ৮৭৯]

________________________________________

সূরা সংক্রান্ত আলোচনাঃ

আয়াত সংখ্যাঃ ৩১ আয়াত।

নাযিল হওয়ার স্থানঃ মাদানী, মতান্তরে মক্কী।

। রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে ।


[১] هل অব্যয়টি আসলে প্রশ্নবোধকরূপে ব্যবহৃত হয়। মাঝে মাঝে কোন জাজ্বল্যমান ও প্রকাশ্য বিষয়কে প্রশ্নের আকারে ব্যক্ত করা যায়, যাতে তার প্রকাশ্যতা আরও জোরদার হয়ে যায়। [ফাতহুল কাদীর] উদ্দেশ্য এই যে, যাকেই জিজ্ঞাসা করবে, সে এ উত্তরই দিবে, অপর কোন সম্ভাবনাই নেই।

[২] আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, মানুষের উপর এমন দীর্ঘ এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন পৃথিবীতে তার নাম-নিশানা এমন কি, আলোচনা পর্যন্ত ছিল না। আয়াতে বৰ্ণিত “যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না” এর অর্থ বর্ণনায় কয়েকটি মত রয়েছে, এক. এখানে মানবসৃষ্টির পূর্বের অবস্থা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এ অন্তহীন মহাকালের মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় তো এমন অতিবাহিত হয়েছে যখন মানব প্ৰজাতির আদৌ কোন অস্তিত্ব ছিল না। তারপর মহাকাল প্রবাহে এমন একটি সময় আসল যখন মানুষ নামের একটি প্রজাতির সূচনা করা হল। [কুরতুবী] দুই. সে একটি ধড় ছিল যার কোন নাম-নিশানা ছিল না। পরবর্তীতে রূহ এর মাধ্যমে তাকে স্মরণীয় করা হয়েছে। [বাগভী; কুরতুবী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

মানুষের উপরে কি দীর্ঘ সময়ের অবকাশ অতিবাহিত হয় নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?