Skip to main content

সূরা হাজ্জ্ব শ্লোক 47

وَيَسْتَعْجِلُونَكَ
আর তোমাকে তাড়াতাড়ি করতে বলে
بِٱلْعَذَابِ
ব্যাপারে শাস্তির
وَلَن
অথচ কখনও না
يُخْلِفَ
ভঙ্গ করবেন
ٱللَّهُ
আল্লাহ
وَعْدَهُۥۚ
তাঁর প্রতিজ্ঞা
وَإِنَّ
আর নিশ্চয়ই
يَوْمًا
সেদিন (হবে)
عِندَ
নিকট
رَبِّكَ
তোমার রবের
كَأَلْفِ
মতো এক হাজার
سَنَةٍ
বছর
مِّمَّا
তা হ'তে যা
تَعُدُّونَ
তোমরা গণনা করো

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি নিয়ে আসতে বলে (কিন্তু শাস্তি তো আসবে আল্লাহর ও‘য়াদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে), কেননা আল্লাহ কক্ষনো তাঁর ওয়া‘দা খেলাফ করেন না, তোমার প্রতিপালকের একদিন হল তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনো ভঙ্গ করেন না। তোমার প্রতিপালকের একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান। [১]

[১] এই কারণে এরা নিজেদের হিসাব অনুসারে জলদি করে। কিন্তু আল্লাহর হিসাবে এক দিন হাজার বছরের সমান। এই হিসাবে আল্লাহ যদি কাউকে একদিন (২৪ ঘণ্টার) অবকাশ দেন তাহলে আযাবের জন্য এক হাজার বছর, অর্ধেক দিনের অবকাশে ৫০০ বছর, ছয় ঘণ্টার অবকাশে ২৫০ বছর প্রয়োজন। এইভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে এক ঘণ্টা অবকাশ পাওয়ার অর্থ কমবেশি ৪০ বছরের অবকাশ পাওয়া যায়। (আইসারুত্ তাফাসীর) আয়াতের অন্য একটি অর্থ হল, আল্লাহর কুদরতে এক দিন ও এক হাজার বছর উভয়ই সমান। সুতরাং তরান্বিত বা বিলম্বিত করাতে কোন পার্থক্য নেই। এরা ত্বরান্বিত করে, আর তিনি বিলম্বিত করেন। তবে এ কথা সুনিশ্চিত যে, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করবেন। আবার কেউ কেউ এর তাৎপর্য পরকাল মনে করে বলেছেন যে, কিয়ামতের ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে, তার একদিন কারো নিকট এক হাজার বছর; বরং অনেকের নিকট ৫০ হাজার বছর বলে মনে হবে। আবার কেউ কেউ বলেন যে, পরকালের একদিন বাস্তবেই এক হাজার বছর সমান হবে।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর তারা আপনাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনো ভংগ করেন না [১]। আর নিশ্চয় আপনার রব-এর কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান [২];

[১] আয়াতের পূর্ণ অর্থ কি? এ ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে- (এক) এসব মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীরা তাদের মূর্খতা, অবাধ্যতা ও অদূরদর্শিতার কারণে তাড়াতাড়ি আল্লাহ্‌র আযাব কামনা করছে। অথচ, আল্লাহ্‌ কখনো ওয়াদা খেলাফ করেন না। তিনি যে শাস্তির ধমকি দিয়েছেন, তা আসবেই। তারা আপনার কাছে তাড়াতাড়ি সে শাস্তি কামনা করলেও তা তো আর আপনার কাছে নেই, সুতরাং তাদের এই তাড়াহুড়া করা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। কেননা, তাদের সামনে রয়েছে কেয়ামত দিবস, যেদিন তিনি পূর্বাপর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে একত্রিক করবেন। তখন তিনি তাদেরকে তাদের প্রতিফল দেবেন। তাদের উপর তো চিরস্থায়ী শাস্তি আপতিত হবে। সুতরাং দুনিয়ার বুকে তাদের উপর শাস্তি আসুক বা নাই আসুক, সেদিন তা তাদের উপর আসবেই। [দেখুন, ইবন কাসীর] (দুই) যদি আয়াতে উল্লেখিত আযাব দ্বারা দুনিয়ার আযাব উদ্দেশ্য হয় তখন আগের অংশের সাথে পরের অংশের মিল হবে এভাবে যে, তোমাদের উপর আযাব দুনিয়াতেই আসবে। আর সেটা এসেছিল বদরের যুদ্ধে। [কুরতুবী]

[২] এ আয়াতে বলা হয়েছে, “আপনার রব-এর কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান”। আখেরাতের একদিন সাৰ্বক্ষণিকভাবে দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীসে এর পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘নিঃস্ব মুসলিমগণ ধনীদের থেকে অর্ধেক দিন পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে যাবে।' [তিরমিযিঃ ২৩৫৩, ২৩৫৪] সুতরাং আয়াতের অর্থ হবে, বান্দাদের এক হাজার বছরের সমান হচ্ছে আল্লাহ্‌র একদিন। [ইবন কাসীর]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর তারা তোমাকে আযাব তরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। আর তোমার রবের নিকট নিশ্চয় এক দিন তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদার কখনো খেলাফ করবেন না। আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর কাছে এক দিন তোমরা যা গণনা কর তার এক হাজার বছরের সমান।