Skip to main content

সূরা আল আ'রাফ শ্লোক 141

وَإِذْ
এবং (স্মরণ করো) যখন
أَنجَيْنَٰكُم
আমরা উদ্ধার করেছিলাম তোমাদের
مِّنْ
হতে
ءَالِ
অনুসারীদের
فِرْعَوْنَ
ফিরাউনের
يَسُومُونَكُمْ
যন্ত্রণা দিতো তোমাদেরকে
سُوٓءَ
নিকৃষ্ট
ٱلْعَذَابِۖ
শাস্তি
يُقَتِّلُونَ
তারা হত্যা করতো
أَبْنَآءَكُمْ
পুত্রদেরকে তোমাদের
وَيَسْتَحْيُونَ
ও তারা জীবিত রাখতো
نِسَآءَكُمْۚ
নারীদেরকে তোমাদের
وَفِى
ও (ছিলো) মধ্যে
ذَٰلِكُم
এর
بَلَآءٌ
পরীক্ষা
مِّن
পক্ষ হতে
رَّبِّكُمْ
রবের তোমাদের
عَظِيمٌ
বড়

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ফির‘আওনী গোষ্ঠী থেকে রক্ষা করেছি যারা তোমাদেরকে কঠিন আযাবে ডুবিয়ে রেখেছিল, যারা তোমাদের ছেলে সন্তানগুলোকে হত্যা করছিল আর তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখছিল, এতে তোমাদের জন্য ছিল তোমাদের রবেবর পক্ষ হতে এক কঠিন পরীক্ষা।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

আর স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ফিরআউন বংশীয়দের হাত হতে উদ্ধার করেছি, যারা তোমাদেরকে মর্মান্তিক শাস্তি দিত; তারা তোমাদের পুত্র-সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। আর এতে তোমাদের জন্য তোমার প্রতিপালকের মহাপরীক্ষা ছিল।[১]

[১] এসব ঐ সকল পরীক্ষা, যার কথা সূরা বাক্বারাহ ২;৪৯নং আয়াত ও সূরা ইবরাহীম ১৪;৬নং আয়াতে আলোচিত হয়েছে।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর স্মরণ কর, যখন আমারা তোমাদেরকে ফির’আউনের অনুসারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছি যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত।তারা তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত; এতে ছিল তোমাদের রবের এক মহাপরীক্ষা [১]।

[১] অর্থাৎ আমরা বনী-ইসরাঈলকে সাগর পার করে দিয়েছি। ফিরআউন সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় বনী-ইসরাঈলের যে অলৌকিক কৃতকার্যতা ও প্রশান্তি লাভ হয়, তার সে প্রতিক্রিয়াই হয়েছে যা সাধারণতঃ প্রাচুর্য আসার পর বস্তুবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্টি হয়ে থাকে। অর্থাৎ তারাও ভোগবিলাসের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করল। ঘটনাটি হল এই যে, এই জাতি মূসা ‘আলাইহিস সালামের মু'জিযা বলে সদ্য লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে এসেছিল এবং গোটা ফির’আউন সম্পপ্রদায়ের সাগরে ডুবে মরার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখে নিয়েছিল, কিন্তু তা সত্বেও একটু অগ্রসর হতেই তারা এমন এক মানব গোষ্ঠীর বাসভূমির উপর দিয়ে অতিক্রম করল, যারা বিভিন্ন মূর্তির পূজায় লিপ্ত ছিল। এই দেখে বনী ইসরাঈলেরও তাদের সেসব রীতি-নীতি পছন্দ হতে লাগল। তাই মূসা ‘আলাইহিসসালামের নিকট আবেদন জানাল, এসব লোকের যেমন বহু উপাস্য রয়েছে, আপনি আমাদের জন্যও এমনি ধরণের কোন একটা উপাস্য নির্ধারণ করে দিন, যাতে আমরা একটা দৃষ্ট বস্তুকে সামনে রেখে ইবাদাত করতে পারি, আল্লাহর সত্তা তো আর সামনে আসে না। মূসা ‘আলাইহিস সালাম বললেন, “তোমাদের মধ্যে বড়ই মূর্খতা রয়েছে"। যাদের রীতি-নীতি তোমরা পছন্দ করছ, তাদের সমস্ত আমল তো বিনষ্ট ও বরবাদ হয়ে গেছে। এরা মিথ্যার অনুগামী। তাদের এসব ভ্রান্ত রীতি-নীতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া তোমাদের পক্ষে উচিত নয়। আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমি কি তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য বানিয়ে দেব? অথচ তিনিই তোমাদেরকে দুনিয়াবাসীর উপর বিশিষ্টতা দান করেছেন। অর্থাৎ তৎকালীন বিশ্ববাসীর উপর মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন। কারণ, তখন মূসা আলাইহিস সালামের উপর যারা ঈমান এনেছিল, তারাই ছিল অন্যান্য লোক অপেক্ষা বেশী মর্যাদাসম্পন্ন ও উত্তম। অতঃপর বনী-ইস্রাঈলকে তাদের বিগত অবস্থা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে যে, ফিরআউনের কওমের হাতে তারা এমনই নির্যাতিত ও দুর্দশাগ্রস্ত ছিল যে, তাদের ছেলেদেরকে হত্যা করে নারীদেরকে অব্যাহতি দেয়া হত সেবাদাসী বানিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে। আল্লাহ মূসা 'আলাইহিস সালামের বদৌলতে এবং তার দো’আর বরকতে তাদেরকে সে আযাব থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এই অনুগ্রহের প্রভাব কি এই হওয়া উচিত যে, তোমরা সেই রাববুল আলামীনের সাথে দুনিয়ার নিকৃষ্টতম পাথরকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে। এ যে মহা যুলুম। এই থেকে তাওবাহ কর।

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর স্মরণ কর, যখন আমি ফির‘আউনের লোকদের থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করলাম, যারা তোমাদের নিকৃষ্ট শাস্তি দিত। যারা তোমাদের ছেলেদের হত্যা করত এবং নারীদের জীবিত রাখত। এতে ছিল তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি; তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট শাস্তি, তোমাদের পুত্র-সন্তানদের মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এতে তোমাদের প্রতি তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট পরীক্ষা রয়েছে।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর স্মরণ করো, আমরা তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম ফিরআউনের লোকদের থেকে, তারা তোমাদের অত্যাচার করেছিল মর্মান্তিক শাস্তি দিয়ে, -- তারা তোমাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করতো ও বাচঁতে দিত তোমাদের কন্যাদের। আর এতে ছিল তোমাদের জন্য তোমাদের প্রভুর তরফ থেকে এক বিরাট সঙ্কট।