Skip to main content

সূরা বনী ইসরাঈল শ্লোক 60

وَإِذْ
এবং যখন
قُلْنَا
আমরা বলেছিলাম
لَكَ
তোমাকে
إِنَّ
"নিশ্চয়ই
رَبَّكَ
তোমার রব
أَحَاطَ
ঘিরে রেখেছেন
بِٱلنَّاسِۚ
নিয়ে মানুষকে"
وَمَا
এবং না
جَعَلْنَا
আমরা করেছি
ٱلرُّءْيَا
দৃশ্য
ٱلَّتِىٓ
যা
أَرَيْنَٰكَ
তোমাকে আমরা দেখিয়েছি
إِلَّا
এ ছাড়া যে
فِتْنَةً
পরীক্ষা
لِّلنَّاسِ
মানুষের জন্যে
وَٱلشَّجَرَةَ
এবং গাছটিকেও
ٱلْمَلْعُونَةَ
অভিশপ্ত
فِى
মধ্যে
ٱلْقُرْءَانِۚ
কুরআনের
وَنُخَوِّفُهُمْ
এবং ভয় দেখাই আমরা তাদের
فَمَا
কিন্তু না
يَزِيدُهُمْ
তাদের বৃদ্ধি করে
إِلَّا
এ ছাড়া
طُغْيَٰنًا
অবাধ্যতা
كَبِيرًا
ঘোর

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

স্মরণ কর, আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, তোমার রবব মানুষদেরকে ঘিরে রেখেছেন। আমি তোমাকে (মি’রাজের মাধ্যমে) যে দৃশ্য দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত (জাক্কুম) গাছটিও মানুষদেরকে পরীক্ষা করার জন্য (যে কারা তা বিশ্বাস ক’রে নেককার হয় আর কারা তা অবিশ্বাস ক’রে পাপী হয়)। আমি তাদেরকে ভয় দেখাই ও সাবধান করি, কিন্তু তাতে তাদের চরম অবাধ্যতাই বৃদ্ধি পায়।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

(স্মরণ কর,) যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম যে, তোমার প্রতিপালক মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন।[১] আর আমি যে দৃশ্য তোমাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ শুধু মানুষের পরীক্ষার জন্যই।[২] আমি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করি, কিন্তু এটা তাদের তীব্র অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে। [৩]

[১] অর্থাৎ, মানুষ আল্লাহর আধিপত্য ও তাঁর আয়ত্তাধীনে রয়েছে এবং তিনি যা চাইবেন, তা-ই হবে। তারা যা চাইবে, তা নয়। অথবা এ থেকে মক্কাবাসীদেরকে বুঝানো হয়েছে যে, তারা আল্লাহর অধীনস্থ। তুমি কোন প্রকার ভয় না করে রিসালাতের দাওয়াত দিয়ে যাও। তারা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আমি তাদের হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করব। কিংবা এখানে বদর যুদ্ধে এবং মক্কা বিজয়ের দিন মক্কার কাফেররা যে শিক্ষামূলক পরাজয়ের শিকার হয়েছিল, সেটাকেই তুলে ধরা হয়েছে।

[২] সাহাবা ও তাবেঈনগণ এই দৃশ্যের ব্যাখ্যা করেছেন, চাক্ষুষ দর্শন এবং এ থেকে মি'রাজের ঘটনাকে বুঝানো হয়েছে। এ ঘটনা অনেক দুর্বল ঈমানের লোকদের জন্য ফিতনার কারণ হয়েছে এবং তারা মুরতাদ হয়ে গেছে। আর 'বৃক্ষ' বলতে যাক্কুম গাছ, যা মি'রাজের রাতে রসূল (সাঃ) জাহান্নামে দেখেছেন। المَلْعُوْنَةَ (অভিশপ্ত) বলতে, ভক্ষণকারী। অর্থাৎ, সেই গাছ যা অভিশপ্ত জাহান্নামীরা ভক্ষণ করবে। যেমন, অন্যত্র এসেছে, {إِنَّ شَجَرَةَ الزَّقُّومِ* طَعَامُ الْأَثِيمِ} "অবশ্যই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে।" (সূরা দুখান ৪৪;৪৩-৪৪ আয়াত)

[৩] অর্থাৎ, যেহেতু কাফেরদের অন্তরে কূটবুদ্ধি ও শত্রুতা রয়েছে, যার কারণে নিদর্শনসমূহ দেখা সত্ত্বেও ঈমান আনার পরিবর্তে তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন আরো বেড়ে যায়।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর স্মরণ করুন, যখন আমরা আপনাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয় আপনার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে আছেন [১]। আর আমরা যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা [২] এবং কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত গাছটিও [৩] শুধু মানুষের জন্য ফিতনাস্বরূপ [৪] নির্ধারণ করেছি। আর আমরা তাদেরকে ভয় দেখাই, কিন্তু এটা তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে।

[১] অর্থাৎ আপনার নবুওয়াতী দাওয়াতের সূচনালগ্নেই যখন মক্কার এ কাফেররা আপনার বিরোধিতা করতে এবং আপনার পথে প্রতিবন্ধকতা দাঁড় করাতে শুরু করেছিল তখনই আমি পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছিলাম, আমি এ লোকদেরকে ঘিরে রেখেছি, এরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে দেখে নিক, কোন ভাবেই এরা আপনার দাওয়াতের পথ রোধ করতে পারবে না এবং আপনি যে কাজে হাত দিয়েছেন সব রকমের বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সে কাজ সম্পন্ন হবেই। অথবা আয়াতের অর্থ, আপনি দাওয়াত দিতে থাকুন, তারা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, তারা সবাই আল্লাহর আয়ত্ত্বাধীন। [ইবন কাসীর] আল্লাহ বিরোধীদেরকে ঘিরে রেখেছেন এবং নবীর দাওয়াত আল্লাহর হেফাজতে রয়েছে-একথা মক্কার প্রাথমিক যুগের সূরাগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে। যেমন সূরা বুরুজে বলা হয়েছেঃ “কিন্তু এ কাফেররা মিথ্যা বলার ও অস্বীকার করার কাজে লেগেই আছে এবং আল্লাহ সবদিক থেকে তাদেরকে ঘেরাও করে রেখেছেন"। [১৯-২০] এর জন্য আরো দেখুন, সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯, সূরা ফুসসিলাতঃ ৫৪ ৷

[২] এ আয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ তফসীরবিদদের মতে الرؤيا (স্বপ্ন) বলে رؤية (দেখা) বোঝানো হয়েছে। যা ইসরা ও মি'রাজের রাত্ৰিতে সংঘটিত হয়েছিল। [ইবন কাসীর]

[৩] অর্থাৎ “যাক্কুম”। এ সম্পর্কে কুরআনে খবর দেয়া হয়েছে, এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশে উৎপন্ন হবে এবং জাহান্নামীদের তা খেতে হবে। একে অভিশপ্ত করার মানে হচ্ছে এই যে, যারা এ গাছ থেকে খাবে তারা অভিশপ্ত হবে। [ফাতহুল কাদীর] যেমন অন্য সূরায় বলা হয়েছে, “নিশ্চয় যাক্কুম গাছ হবে, পাপীর খাদ্য" [সূরা আদ-দোখান; ৪৩-৪৪]

[৪] অর্থাৎ মি'রাজের রাত্ৰিতে যে দৃশ্যাবলী আমি আপনাকে দেখিয়েছিলাম, তা মানুষের জন্য একটি ফেতনা ছিল। আরবী ভাষায় ‘ফেতনা’ শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর এক অর্থ গোমরাহী। আরেক অর্থ পরীক্ষাও হয় এবং অন্য এক অর্থ হাঙ্গামা ও গোলযোগ। এখানে সব অর্থের সম্ভাবনা বিদ্যমান। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা, সুফিয়ান, হাসান, মুজাহিদ রাহে মাহুমুল্লাহ প্রমুখ বলেনঃ এটা ছিল ধর্মত্যাগের ফেতনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শবে-মে'রাজে বায়তুল-মুকাদ্দাস, সেখান থেকে আকাশে যাওয়ার এবং প্রত্যুষের পূর্বে ফিরে আসার কথা প্রকাশ করলেন, তখন কোন কোন অপক্ক নও মুসলিম মুরতাদ হয়ে যাবার অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল। [তাবারী; ফাতহুল কাদীর]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে বললাম, ‘নিশ্চয় তোমার রব মানুষকে ঘিরে রেখেছেন। আর যে ‘দৃশ্য’* আমি তোমাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষ** কেবল মানুষের পরীক্ষাস্বরূপ নির্ধারণ করেছি’। আমি তাদের ভয় দেখাই; কিন্তু তা কেবল তাদের চরম অবাধ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

* অর্থাৎ, রু’য়া হচ্ছে স্বপ্নে অথবা বাস্তবে স্বপ্নবৎ দেখা। এস্থলে বাস্তবে দেখা উদ্দেশ্য। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজে দেখা দৃশ্যাবলী ও ঘটনাবলী বাস্তবে ও স্বশরীরে দেখেছেন।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

এবং স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলে দিয়েছিলাম যে, আপনার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর স্মরণ করো! আমরা তোমাকে বলেছিলাম -- ''নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু মানুষকে ঘেরাও করে আছেন। আর তো মাকে যা দেখিয়েছিলাম সেই দৈবদর্শন আমরা মানুষের জন্যে একটি পরীক্ষার জন্য ছাড়া বানাই নি, আর কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বৃক্ষও। আর আমরা তাদের হুশিয়াঁর করছি, কিন্তু এটি তাদের তীব্র অবাধ্যতা ছাড়া আর কিছুই বাড়ায় না।