১৫-১৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আহলে কিতাবদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ ও তাদের দ্বারা সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা আলোচনা করার পর তাদেরকে সম্বোধন করে আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরব, অনারব, আহলে কিতাব ও নিরক্ষর সকলের জন্য নাবী হিসেবে প্রেরণ করেছি। তাঁকে সুষ্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে প্রেরণ করেছি। সুতরাং তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। তোমাদেরকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তা থেকে যা গোপন করেছ, তিনি তার অনেক বর্ণনা করে দেবেন, যেমন বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা ইত্যাদি। তবে অধিকাংশই ক্ষমা করে দেবেন। এটা হল নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও নবুওয়াতের সত্যতার অকাট্য প্রমাণ।
(نُوْرٌ وَّكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ)
‘জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব’এখানে نُوْرٌ (আলো) ও وَّكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ ( সুস্পষ্ট কিতাব) দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِه۪ وَالنُّوْرِ الَّذِيْٓ أَنْزَلْنَا)
“অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এবং যে জ্যোতি আমি অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন কর।” (সূরা তাগাবুন ৬৪:৮, তাফসীরে সা‘দী, পৃঃ ২১৪)
এ জ্যোতিপূর্ণ কুরআন দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দান করেন যারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি কামনা করে এবং শান্তির পথে চলে। অতএব যারা নূর দ্বারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বুঝায় তাদের ব্যাখ্যা ভুল। আর যারা বলে সর্বপ্রথম আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদের নূর সৃষ্টি করেছেন তাও মিথ্যা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
أَوَّلُ مَاخَلَقَ اللّٰهُ الْقَلَمَ
আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। (তিরমিযী হা: ২১৫৫, আবূ দাঊদ হা: ৪৭০০, সহীহ )।
“আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম মুহাম্মাদের নূর সৃষ্টি করেছেন” এ মর্মে হাদীসটি বানোয়াট। (তালীকাতে মিশকাত ১/৩৪, মেরকাতুল মাফাতিহ ১/৩৮৭)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মাটির তৈরি রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। তিনি আবদুল্লাহর ঔরসে আমিনার গর্ভে জন্ম লাভ করেছেন। শুধু পার্থক্য এই যে, তিনি রাসূল, তাঁর নিকট ওয়াহী আসে আর সাধারণ মানুষের নিকট ওয়াহী আসে না, যার ফলে তাঁর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قُلْ إِنَّمَآ أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوْحٰٓي إِلَيَّ أَنَّمَآ إلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ)
“বল: ‘আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহ্ কেবল এক ইলাহ্।”(সূরা কাহফ ১৮:১১০)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আহলে কিতাবদেরকে ইসলামের দিকে আল্লাহ তা‘আলা আহ্বান জানিয়েছেন।
২. আহলে কিতাবগণ অনেক শরয়ী বিধানকে গোপন করেছিল তা প্রকাশিত হয়েছে কুরআনে।
৩. নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সারা পৃথিবীর সকল মানব ও দানবের রাসূল, তাঁর প্রতি ঈমান আনা সকলের জন্য আবশ্যক।
৪. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মত আদম সন্তান ও মাটির তৈরি মানুষ।
৬. হিদায়াত প্রার্থীদের আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াত দেন।