Skip to main content

সূরা আত তাওবাহ শ্লোক 101

وَمِمَّنْ
এবং মধ্যে তাদের যারা
حَوْلَكُم
তোমাদের আশপাশে(আছে)
مِّنَ
কেউ কেউ
ٱلْأَعْرَابِ
বেদুঈনদের
مُنَٰفِقُونَۖ
(অনেকেই) মুনাফেক
وَمِنْ
এবং কেউ কেউ
أَهْلِ
অধিবাসী
ٱلْمَدِينَةِۖ
মাদীনাহ
مَرَدُوا۟
তারা চরমে পৌঁছে গিয়েছে
عَلَى
ক্ষেত্রে
ٱلنِّفَاقِ
কপটতার
لَا
না
تَعْلَمُهُمْۖ
জানো তুমি তাদের
نَحْنُ
আমরা
نَعْلَمُهُمْۚ
জানি তাদের
سَنُعَذِّبُهُم
শীঘ্রই আমরা শাস্তি দিবো তাদের
مَّرَّتَيْنِ
দু'বার
ثُمَّ
এরপর
يُرَدُّونَ
তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে
إِلَىٰ
দিকে
عَذَابٍ
শাস্তির
عَظِيمٍ
কঠোর

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তোমাদের চতুষ্পার্শ্বে কতক বেদুঈন হল মুনাফিক, আর মাদীনাবাসীদের কেউ কেউ মুনাফিকীতে অনঢ়, তুমি তাদেরকে চেন না, আমি তাদেরকে চিনি, আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেব, (ক্ষুধা বা নিহত হওয়া এবং কবরের শাস্তি) অতঃপর তাদেরকে মহা শাস্তির পানে ফিরিয়ে আনা হবে।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের মধ্য হতে কতিপয় এবং মদীনাবাসীদের মধ্যে হতেও কতিপয় লোক এমন মুনাফিক্ব রয়েছে; যারা মুনাফিক্বীতে অটল।[১] তুমি তাদেরকে জান না,[২] আমি তাদেরকে জানি। আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করব,[৩] অতঃপর (পরকালেও) তারা মহা শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।

[১] مَرَدَ এবং تَمَرَّد এর অর্থ হল নরম, মোলায়েম এবং খালি। সুতরাং পাতা নেই এমন ডালকে, দেহে লোম নেই এমন ঘোড়াকে এবং মুখমন্ডলে এখনো দাঁড়ি-মোছ গজায়নি এমন বালককে أَمْرَدُ বলা হয়। যেমন কাঁচকে صَرْحٌ مُمَرَّدٌ অর্থাৎ مُجَرَّدٌ (স্বচ্ছ) বলা হয়। (مَرَدُوْا عَلَى النِّفَاقِ) এর অর্থ হবে 'تَجَرَّدُوا عَلَى النِّفَاقِ' অর্থাৎ তারা নিজেদেরকে মুনাফিকির জন্য খালি করে নিয়েছে, অর্থাৎ, খাঁটি মুনাফিকিতে তারা অনড়।

[২] এখানে কত পরিষ্কার বাক্যে নবী (সাঃ)-এর 'আ-লিমুল গায়ব' না হওয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আফসোস! যদি বিদআতীরা কুরআন বুঝার তাওফীক পেত।

[৩] কেউ কেউ এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন যে, তা হল পৃথিবীর অপমান-লাঞ্ছনা, তারপর আখেরাতের শাস্তি। আবার কেউ কেউ বলেন, পৃথিবীরই দ্বিগুণ শাস্তি।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফেক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ, তারা মুনাফেকীতে চরমে পৌছে গেছে। আপনি তাদেরকে জানেন না [১]; আমরা তাদেরকে জানি। অচিরেই আমরা তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব তারপর তাদেরকে মহাশাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করানো হবে।

[১] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে,

(وَ لَوۡ نَشَآءُ لَاَرَیۡنٰکَهُمۡ فَلَعَرَفۡتَهُمۡ بِسِیۡمٰهُمۡ ؕ وَ لَتَعۡرِفَنَّهُمۡ فِیۡ لَحۡنِ الۡقَوۡلِ )

“আর আমরা ইচ্ছে করলে আপনাকে তাদের পরিচয় দিতাম; ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদেরকে চিনতে পারতেন। তবে আপনি অবশ্যই কথার ভংগিতে তাদেরকে চিনতে পারবেন " [সূরা মুহাম্মাদ;৩০] এবং বিভিন্ন হাদীসে যে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ১৪ বা ১৫ জনের নাম জানিয়ে দিয়েছেন সেটার সাথে এ আয়াতের কোন দ্বন্ধ নেই। কারণ, সূরা মুহাম্মাদের আয়াতে তাদের চিহ্ন বলে দেয়া উদ্দেশ্য, সবাইকে জানা নয়। অনুরূপভাবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যাদের নাম জানিয়েছেন তা দ্বারাও এটা সাব্যস্ত হচ্ছে না যে, তিনি সবার নাম ও পরিচয় পূর্ণভাবে জানতেন। [ইবন কাসীর]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর তোমাদের আশপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কিছু লোক অতিমাত্রায় মুনাফিকীতে লিপ্ত আছে। তুমি তাদেরকে জান না। আমি তাদেরকে জানি। অচিরে আমি তাদেরকে দু’বার আযাব দেব তারপর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে মহাআযাবের দিকে।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

আর কিছু কিছু তোমার আশ-পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর বেদুইনদের মধ্যের যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফিকরা, আবার মদীনার বাসিন্দাদের মধ্যেও -- ওরা কপটতায় নাছোড়বান্দা। তুমি তাদের জানো না, আমরা ওদের জানি। আমরা অচিরেই তাদের দু বার শাস্তি দেবো, তারপর তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে কঠোর শাস্তির দিকে।