Skip to main content
ARBNDEENIDTRUR

সূরা আল বাকারা শ্লোক 8

وَمِنَ
এবং মধ্যহতে
ٱلنَّاسِ
মানুষের (এমনও আছে)
مَن
যারা
يَقُولُ
বলে
ءَامَنَّا
''আমরা ঈমান এনেছি
بِٱللَّهِ
আল্লাহর উপর
وَبِٱلْيَوْمِ
ও দিনের উপর
ٱلْءَاخِرِ
আখিরাতের''
وَمَا
অথচ না
هُم
তারা
بِمُؤْمِنِينَ
মুমিন

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাতের দিনের প্রতি ঈমান এনেছি’’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মু’মিন নয়।

আহসানুল বায়ান

মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী’, কিন্তু তারা বিশ্বাসী নয়।

এখান থেকে তৃতীয় দল মুনাফিক্বদের কথা আলোচনা আরম্ভ হচ্ছে। তাদের অন্তঃকরণ তো ঈমান থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু তারা ঈমানদারদেরকে প্রতারিত করার জন্য মৌখিকভাবে ঈমানের প্রকাশ করতো। মহান আল্লাহ বললেন, তারা না আল্লাহকে প্রতারিত করতে সফলকাম হবে, কেননা তিনি তো সর্ব ব্যাপারে জ্ঞাত, আর না ঈমানদারকে স্থায়ীভাবে ধোঁকার মধ্যে রাখতে পারবে, কেননা তিনি অহীর মাধ্যমে মুসলিমদেরকে তাদের প্রতারণা সম্পর্কে অবহিত ক'রে দিতেন। প্রকৃতপক্ষে এই প্রবঞ্চনার সমস্ত প্রকার ক্ষতির শিকার তারা নিজেরাই হয়েছে। যার ফলে তারা তাদের আখেরাত নষ্ট করেছে এবং দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হয়েছে।

আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর [১] মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ্‌ ও শেষ দিবসে ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়।

[১] এ আয়াত থেকে পরবর্তী ১৩টি আয়াত মুনাফিকদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। এখানে নিফাক ও মুনাফিকদের সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

নিফাক অর্থঃ প্রকাশ্যে কল্যান ব্যক্ত করা আর গোপনে অকল্যান পোষণ করা। মুনাফেকী দু'প্রকারঃ ১। বিশ্বাসগত মুনাফেকী। ২। আমলগত (কার্যগত) মুনাফেকী। [তাফসীরে ইবনে কাসীর] তন্মধ্যে বিশ্বাসগত মোনাফেকী ছয় প্রকার, এর যে কোন একটা কারো মধ্যে পাওয়া গেলে সে জাহান্নামের সর্বশেষ স্তরে নিক্ষিপ্ত হবে। ১.রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ২. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। ৩. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘৃণা বা অপছন্দ করা। ৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে ঘৃণা বা অপছন্দ করা। ৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দ্বীনের অবনতিতে খুশী হওয়া। ৬. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দ্বীনের জয়ে অসন্তুষ্ট হওয়া। আর কার্যগত মুনাফেকীঃ এ ধরণের মুনাফেকী পাঁচ ভাবে হয়ে থাকেঃ এর প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর বাণীঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকের নিদর্শন হলো তিনটিঃ কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত রাখলে খিয়ানত করে। [বুখারী;৩৩, মুসলিম; ৫৯]

অপর বর্ণনায় এসেছেঃ ঝগড়া করলে অকথ্য গালি দেয়, চুক্তিতে উপনীত হলে তার বিপরীত কাজ করে। [মুসলিম; ৫৮, নাসায়ী; ৫০২০] এ জাতীয় নিফাক দ্বারা ঈমানহারা হয় না ঠিকই কিন্তু এ জাতীয় নিফাক আকীদাগত নিফাকের মাধ্যম। সুতরাং মুমিনের কর্তব্য হবে এ জাতীয় নিফাক হতে নিজেকে দূরে রাখা। [আল-ওয়াজিবাতুল মুতাহাত্তিমাত]

আল-বায়ান ফাউন্ডেশন

আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি’, অথচ তারা মুমিন নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।

জহুরুল হক

আর মানুষের মাঝে কেউ-কেউ বলে থাকে -- “আমরা আল্লাহ্‌র প্রতি এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান এনেছি”, অথচ তারা মুমিনদের মধ্যে নয়।