Skip to main content

সূরা আর-রূম শ্লোক 55

وَيَوْمَ
এবং যেদিন
تَقُومُ
সংঘটিত হবে
ٱلسَّاعَةُ
ক্বিয়ামাত
يُقْسِمُ
শপথ করে বলবে
ٱلْمُجْرِمُونَ
অপরাধীরা
مَا
না
لَبِثُوا۟
তারা অবস্থান করেছে
غَيْرَ
ছাড়া
سَاعَةٍۚ
মুহূর্তকাল
كَذَٰلِكَ
এরূপেই
كَانُوا۟
তারা ছিলো
يُؤْفَكُونَ
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করা হবে

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অন্যায়কারীরা কসম করে বলবে যে, তারা মূহূর্তকালের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হত।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

যেদিন কিয়ামত হবে,[১] সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা (পৃথিবীতে) মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি।[২] এভাবেই তারা সত্য বিমুখ হত। [৩]

[১] سَاعَة এর অর্থ হল সময়, কাল, মুহূর্ত। উদ্দেশ্য হল মহাকাল কিয়ামতের দিন। سَاعَة এই জন্য বলা হয়েছে যে, আল্লাহ যখনই চাইবেন তা মুহূর্তের মধ্যে সাথে সাথে প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা এই জন্য বলা হয়েছে যে, তা যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনকার সময়টা হবে পৃথিবীর সর্বশেষ সময়।

[২] পৃথিবীতে অথবা কবরে। তারা নিজেদের অভ্যাস মত মিথ্যা কসম খাবে। কারণ তারা পৃথিবীতে যতদিন অবস্থান করেছে তা তো তাদের জানা। আর যদি উদ্দেশ্য কবরের জীবন হয়, তবে তাদের কসম অজ্ঞতাবশতঃ হবে। কারণ কবরের অবস্থানের সময় তাদের অজানা। অনেকে বলেন যে, কিয়ামতের কঠিনতা ও ভয়াবহতা (বা দীর্ঘতা)র কারণে পৃথিবীর জীবন তাদেরকে সামান্য ক্ষণ বা মুহূর্তকাল মনে হবে।

[৩] أَفَكَ الرَّجُلُ এর অর্থ হল 'সত্যবিমুখ হয়ে গেছে' উদ্দেশ্য তারা পৃথিবীতে সত্য থেকে বিমুখ ছিল।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি [১]। এভাবেই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করা হত [২]।

[১] অর্থাৎ হাশরে কাফেররা কসম খেয়ে এই মিথ্যা কথা বলবে, আমরা দুনিয়াতে অথবা কবরে এক মুহুর্তের বেশী থাকিনি। অন্য এক আয়াতে মুশরিকদের এই উক্তি বর্ণিত আছে, “তারা কসম খেয়ে বলবে আমরা মুশরিক ছিলাম না।” [সূরা আল-আন’আম;২৩] এর কারণ এই যে, হাশরের ময়দানে রাব্ববুল আলামীনের আদালত কায়েম হবে। তিনি সবাইকে স্বাধীনতা দেবেন। তারা সত্য কিংবা মিথ্যা যে কোন বিবৃতি দিতে পারবে। কেননা, রাব্বুল আলমীনের ব্যক্তিগত জ্ঞানও পূর্ণমাত্রায় আছে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্যে তিনি তাদের স্বীকারোক্তি করা না করার মুখাপেক্ষী নন। মানুষ যখন মিথ্যা বলবে, তখন তার মুখ মোহরাঙ্কিত করে দেয়া হবে এবং তার হস্ত-পদ ও চর্ম থেকে সাক্ষ্য নেয়া হবে। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা বিবৃত করে দেবে। এরপর আর কোন প্রমাণ আবশ্যক হবে না। আলোচ্য আয়াতের অর্থ তাই। কুরআনের অন্যান্য আয়াত থেকে জানা যায় যে, হাশরের মাঠে বিভিন্ন অবস্থানস্থল হবে এবং প্রত্যেক অবস্থানস্থলের অবস্থা ভিন্নরূপ হবে। এক অবস্থানস্থলে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারও কথা বলার অধিকার থাকবে না। যাকে অনুমতি দেয়া হবে, সে কেবল সত্য ও নির্ভুল কথা বলতে পারবে মিথ্যা বলার সামৰ্থ্য থাকবে না। যেমন এরশাদ হয়েছে, “যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না”। [সূরা হূদ;১০৫] এর বিপরীতে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, কবরে যখন কাফেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার পালনকর্তা কে এবং মুহাম্মাদ কে ? তখন সে বলবে, ‘হায়, হায়, আমি কিছুই জানি না” [মুসনাদে আহমাদ; ৪/২৮৭, ২৯৫-২৯৬, আবু দাউদ; ৪৭৫৩]।

[২] কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ এভাবেই তারা দুনিয়াতে মিথ্যা বলত। তারা সত্য থেকে বিমুখ থাকত। সত্য থেকে বিরত হয়ে মিথ্যার দিকে চলে যেত। [তাবারী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ থেকেছে।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, এক মুহুর্তেরও বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবে তারা সত্যবিমুখ হত।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর যেদিন ঘড়িঘন্টা সংস্থাপিত হবে তখন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে এক ঘড়ি ব্যতীত তারা অবস্থান করে নি। এইভাবেই তারা প্রতারিত হয়ে চলেছে।