Skip to main content
ARBNDEENIDTRUR

সূরা আল মায়িদাহ শ্লোক 114

قَالَ
(তখন) বলেছিলো
عِيسَى
ঈসা
ٱبْنُ
পুত্র্র
مَرْيَمَ
মারইয়ামের
ٱللَّهُمَّ
"হে আল্লাহ
رَبَّنَآ
হে আমাদের রব
أَنزِلْ
পাঠান
عَلَيْنَا
জন্যে আমাদের
مَآئِدَةً
খাদ্যপূর্ণ পাত্র
مِّنَ
থেকে
ٱلسَّمَآءِ
আকাশ
تَكُونُ
যা হবে
لَنَا
জন্যে আমাদের
عِيدًا
খুশির উপলক্ষ
لِّأَوَّلِنَا
জন্যে পূর্ববর্তীদের আমাদের
وَءَاخِرِنَا
ও পরবর্তীদের আমাদের
وَءَايَةً
ও নিদর্শন (হবে)
مِّنكَۖ
থেকে আপনার
وَٱرْزُقْنَا
এবং জীবিকা দিন আমাদেরকে
وَأَنتَ
এবং আপনি
خَيْرُ
উত্তম
ٱلرَّٰزِقِينَ
জীবিকাদাতা

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

‘ঈসা ইবনু মারইয়াম বলেছিল, হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক আমাদের নিকট আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা প্রেরণ কর যা আমাদের প্রথম থেকে শেষ সকল ব্যক্তির জন্য আনন্দের ব্যাপার হবে আর হবে তোমার থেকে একটা নিদর্শন। আর আমাদেরকে জীবিকা দান কর; তুমিই সর্বোত্তম রিযকদাতা।

আহসানুল বায়ান

মারয়্যাম-তনয় ঈসা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ কর, এ হবে আমাদের ও আমাদের সকলের জন্য তোমার নিকট থেকে নিদর্শন এবং আনন্দোৎসব স্বরূপ।[১] আর আমাদেরকে জীবিকা দান কর। তুমিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’

[১] ইসলামী শরীয়তে ঈদের উদ্দেশ্য এ নয় যে, এটি জাতীয় পরবের একটি দিন। যাতে যাবতীয় নৈতিক বন্ধন ও শরয়ী বাধা-নিষেধকে উল্লংঘন করে উচ্ছৃঙ্খলভাবে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করা হবে, ঘর-বাহির আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে এবং নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে; যেমন আজকাল এই ধরনেরই কিছু বুঝে মহা উদ্দীপনার সাথে ঈদের পর্ব পালন করা হয়ে থাকে। বরং আসমানী শরীয়তসমূহে ঈদের মর্যাদা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কিছু নয়। যার আসল উদ্দেশ্য এই হয় যে, সেদিন জাতির সকল মানুষ জামাআতবদ্ধভাবে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে, সকলে (একাকী) তাকবীর ও তাহমীদের আওয়াজ উঁচু করবে। এখানেও ঈসা (আঃ) যে দিনকে ঈদ বানানোর আশা পোষণ করেছেন, তাতে তাঁর উদ্দেশ্য এই যে, আমরা ঐ ঈদে তোমার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা করব, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ করব। পক্ষান্তরে কিছু বিদআতী এই 'ঈদে মায়েদাহ' দ্বারা 'ঈদে মীলাদ' (জন্মদিন) প্রমাণ করার প্রয়াস পেয়েছে। অথচ প্রথমতঃ এ ঘটনা আমাদের শরীয়তের নয়; বরং পূর্ববর্তী শরীয়তের, যাকে ইসলাম বহাল রাখতে চাইলে তার স্পষ্ট বিবৃতি থাকত। দ্বিতীয়তঃ নবীর মুখে 'ঈদ' বানানোর কামনা প্রকাশ করা হয়েছিল, আর নবীও আল্লাহর নির্দেশে শরয়ী বিধি-বিধান বর্ণনা করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হন। (অর্থাৎ, ঈদ একটি শরয়ী বিধান।) তৃতীয়তঃ ঈদের অর্থ ও উদ্দেশ্য তাই হয়, যা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু 'ঈদে মীলাদ' (জন্মদিন)এ উপরোক্ত কোন কথাই পাওয়া যায় না। এই জন্য এই ঈদের বিদআত হওয়াতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। মুসলিমদের কেবল দুটিই ঈদ; যা ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত; ঈদুল ফিতব্র ও ঈদুল আযহা। এ ছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ নেই।

আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌ আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা পাঠান; এটা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তি সবার জন্য হবে আনন্দোৎসব স্বরুপ এবং আপনার কাছ থেকে নিদর্শন।আর আমাদের জীবিকা দান করুন; আপনিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।’

আল-বায়ান ফাউন্ডেশন

মারইয়ামের পুত্র ঈসা বলল, ‘হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন; এটা আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। আর আমাদেরকে রিয্ক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা’।

মুহিউদ্দীন খান

ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।

জহুরুল হক

মরিয়ম-পুত্র ঈসা বললেন -- ''হে আল্লাহ্‌! আমাদের প্রভু! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্য-পরিপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করো, যা হবে আমাদের জন্য এক ঈদ, -- আমাদের অগ্রগামীদের জন্য ও পশ্চাদগামীদের জন্য, আর তোমার কাছ থেকে একটি নিদর্শন, আর আমাদের রিযেক দান করো, কেননা তুমিই রিযেকদাতাদের সর্বোত্তম।’’