Skip to main content

সূরা আল আনআম শ্লোক 97

وَهُوَ
এবং তিনিই
ٱلَّذِى
যিনি
جَعَلَ
সৃষ্টি করেছেন
لَكُمُ
জন্যে তোমাদের
ٱلنُّجُومَ
নক্ষত্রগুলো
لِتَهْتَدُوا۟
যেন তোমরা পথ পাও
بِهَا
সাহায্যে তার
فِى
মধ্যে
ظُلُمَٰتِ
অন্ধকারে সমূহের
ٱلْبَرِّ
স্থলে
وَٱلْبَحْرِۗ
ও সাগরে
قَدْ
নিশ্চয়ই
فَصَّلْنَا
বিশদ বর্ণনা করেছি আমরা
ٱلْءَايَٰتِ
নিদর্শনগুলোকে
لِقَوْمٍ
জন্যে সম্প্রদায়ের
يَعْلَمُونَ
(যারা) জ্ঞান রাখে

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তিনি তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা সেগুলোর সাহায্যে জলে স্থলে অন্ধকারে পথের দিশা লাভ করতে পার। আমি আমার নিদর্শনগুলোকে জ্ঞানীদের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তা দিয়ে স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ পাও।[১] জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছেন।

[১] এখানে তারকারাজির আরো একটি উপকারিতা ও উদ্দেশ্যের কথা বর্ণনা হয়েছে। এর আরো দু'টি উদ্দেশ্য আছে যা অন্যত্র বর্ণনা করা হয়েছে। আসমানের সৌন্দর্য এবং শয়তানকে মেরে তাড়ানোর হাতিয়ার। رُجُوْمًا لِلشَّيَاطِيْن অর্থাৎ, শয়তান যখন আসমানে যাওয়ার প্রচেষ্টা করে, তখন এরা উলকা হয়ে তার উপর পতিত হয়। কোন কোন সালাফদের উক্তি হল, مَنِ اعْتَقَدَ فِيْ هَذِهِ النَّجُوْمِ غَيْرَ ثَلاَثٍ، فَقَدْ أَخْطَأَ وَكَذَبَ عَلَى اللهِ অর্থাৎ, এই তিনটি জিনিস ব্যতীত এই তারাগুলোর ব্যাপারে কেউ যদি অন্য কোন ধারণা পোষণ করে, তবে সে ভুল করবে এবং আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারী গণ্য হবে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের দেশে যে জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা রয়েছে যাতে আগামীর অবস্থাসমূহ, মানুষের জীবন অথবা বিশ্বপরিচালনার উপর তারকারাজির প্রভাব-প্রতিক্রিয়া আছে বলে দাবী করা হয়, তার সবই ভিত্তিহীন এবং শরীয়তের পরিপন্থীও। সুতরাং একটি হাদীসে এই বিদ্যাকে যাদুরই একটি অংশ বলা হয়েছে।

مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِّنَ النُّجُوْمِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِّنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ (حسنه الألباني، صحيح أبي داود ৩৯০৫))

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর তিনিই তোমাদের জন্য তারকামন্ডল সৃষ্টি করেছেন যেন তা দ্বারা তোমারা স্থলের ও সাগরের অন্ধকারে পথ খুঁজে পাও [১]। অবশ্যই আমারা জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি [২]।

[১] অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র ছাড়া অন্যান্য নক্ষত্রও আল্লাহ্ তা'আলার অপরিসীম শক্তির বহিঃপ্রকাশ। এগুলো সৃষ্টি করার পিছনে যে হাজারো রহস্য রয়েছে, তন্মধ্যে একটি এই যে, স্থল ও জলপথে ভ্রমণ করার সময় রাত্রির অন্ধকারে যখন দিক নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন মানুষ এসব নক্ষত্রের সাহায্যে পথ ঠিক করে নিতে পারে। [মুয়াসসার] অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, আজ বৈজ্ঞানিক কলকজার যুগেও মানুষ নক্ষত্রপুঞ্জের পথ প্রদর্শনের প্রতি অমুখাপেক্ষী নয়। এ আয়াতেও মানুষকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, এসব নক্ষত্রও কোন একজন নির্মাতা ও নিয়ন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিচরণ করছে। এরা স্বীয় অস্তিত্ব, স্থায়িত্ব ও কর্মে স্বয়ং-সম্পূর্ণ নয়। যারা শুধু এদের প্রতিই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বসে আছে এবং নির্মাতার প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, তারা অত্যন্ত সংকীর্ণমনা এবং আত্মপ্রবঞ্চিত।

[২] অর্থাৎ আমি শক্তির প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি বিজ্ঞজনদের জন্য। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যারা এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখেও আল্লাহকে চিনে না, তারা বেখবর ও অচেতন। কোন নিদর্শনই তাদের কাজে লাগে না। নবীদের বর্ণনাও তাদের কোন সন্দেহ দূর করতে পারে না। তাদের কাছে এসব বর্ণনা যত স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবেই আসুক না কেন, তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। [সাদী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য তারকারাজি, যাতে তোমরা এ দ্বারা পথপ্রাপ্ত হও স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে। অবশ্যই আমি আয়াতসমূহকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এমন কওমের জন্য যারা জানে।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি, যেন তোমরা তাদের সাহায্যে স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চলতে পারো। আমরা নিশ্চয়ই নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি এমন লোকের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।