Skip to main content

সূরা আল মুমতাহিনা শ্লোক 7

عَسَى
সম্ভবত
ٱللَّهُ
আল্লাহ
أَن
যে
يَجْعَلَ
সৃষ্টি করে দিবেন
بَيْنَكُمْ
তোমাদের মাঝে
وَبَيْنَ
ও মাঝে
ٱلَّذِينَ
যাদের সাথে
عَادَيْتُم
তোমরা শত্রুতা করেছো
مِّنْهُم
তাদের মধ্যে
مَّوَدَّةًۚ
বন্ধুত্ব
وَٱللَّهُ
এবং আল্লাহ
قَدِيرٌۚ
সর্বশক্তিমান
وَٱللَّهُ
ও আল্লাহ
غَفُورٌ
ক্ষমাশীল
رَّحِيمٌ
মেহেরবান

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে আর তাদের মধ্যেকার যাদেরকে তোমরা শত্রু বানিয়ে নিয়েছ তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন (তাদের মুসলিম হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে)। আল্লাহ বড়ই শক্তিমান, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে, সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। [১] আর আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[১] অর্থাৎ, তাদেরকে মুসলমান করে তোমাদের ভাই ও সাথী বানিয়ে দেবেন। যার ফলে তোমাদের মাঝের শত্রুতা ও বিদ্বেষ বন্ধুত্ব ও ভালবাসায় পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর হলও তা-ই। মক্কা বিজয়ের পর মানুষ দলে দলে মুসলমান হতে শুরু করল। আর তাদের মুসলিম হওয়ার সাথে সাথেই আপোসের বিদ্বেষ ভালবাসায় পরিবর্তন হয়ে গেল। যারা মুসলমানদের রক্ত-পিপাসু ছিল, তারা পরস্পরের সাহায্যকারীতে পরিণত হয়ে গেল।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

যাদের সাথে তোমাদের শক্ৰতা রয়েছে সম্ভবত আল্লাহ তাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন [১]; এবং আল্লাহ্‌ ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

[১] আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তা'আলা ইঙ্গিত করেছেন যে, আজ যারা কাফের, ফলে তারা তোমাদের শত্রু ও তোমরা তাদের শক্ৰ, সত্বরই হয়তো আল্লাহ তা'আলা এই শক্রতাকে বন্ধুত্বে পর্যবসিত করে দিবেন। অর্থাৎ তাদেরকে ঈমানের তওফীক দিয়ে তোমাদের পারস্পরিক সুসম্পর্ককে নতুন ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন। এই ভবিষ্যদ্বাণী মক্কা বিজয়ের সময় বাস্তবরূপ লাভ করে। ফলে নিহতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল কাফের মুসলিম হয়ে যায়। [আল-ওয়াহেদী; আসবাবুন নুযুল, ৪৫০] পবিত্র কুরআনের এক আয়াতে এর বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا

অর্থাৎ “আর আপনি দেখতে পাবেন মানুষদেরকে যে তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করবে” [সূরা আন-নাসর;২] বাস্তবেও তাই হয়েছে। আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলামের ভীষণ দুশমন ছিলেন। কিন্তু এ সময়ে আল্লাহ্ তা'আলা আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বাদশা নাজাসী তাকে রাসূলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন, ফলে আবু সুফিয়ানের বিরোধিতায় ভাটা পড়ে, তিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্ৰহণ করেন। তার পুত্ৰ মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুও ইসলাম গ্ৰহণ করেন। তারা পরবর্তীতে ইসলামের পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগান। [দেখুন-কুরতুবী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

যাদের সাথে তোমরা শত্রুতা করছ, আশা করা যায় আল্লাহ তোমাদের ও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আর আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এবং আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

যারা তোমাদের শত্রু আল্লাহ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সম্ভবতঃ বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবই করতে পারেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

হতে পারে যে আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে ও যাদের সঙ্গে তোমরা শত্রুতা করছ তাদের কারো-কারোর মধ্যে বন্ধুত্ব ঘটিয়ে দেবেন। কেননা আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান। আর আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।