Skip to main content
وَتَرَى
এবং তুমি দেখছো
ٱلْجِبَالَ
পর্বতমালাকে
تَحْسَبُهَا
মনে করছো তাদেরকে
جَامِدَةً
অচল
وَهِىَ
অথচ তা (সেদিন)
تَمُرُّ
চলবে
مَرَّ
চলন (মতো)
ٱلسَّحَابِۚ
মেঘমালার
صُنْعَ
সৃষ্টি-নৈপুণ্য
ٱللَّهِ
আল্লাহর
ٱلَّذِىٓ
যিনি
أَتْقَنَ
সুষম করেছেন
كُلَّ
প্রত্যেক
شَىْءٍۚ
জিনিসকে
إِنَّهُۥ
নিশ্চয়ই তিনি
خَبِيرٌۢ
খুব অবহিত
بِمَا
ঐ বিষয় সম্পর্কে যা
تَفْعَلُونَ
তোমরা করছো

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

তুমি পর্বতমালা দেখে অচল মনে করছ; কিন্তু (সেদিন) ওরা হবে মেঘপুঞ্জের মত চলমান।[১] এ আল্লাহরই সৃষ্টি-নিপুণতা যিনি সমস্ত কিছুকে করেছেন সুষম।[২] তোমরা যা কর, সে সম্বন্ধে নিঃসন্দেহে তিনি সম্যক অবগত।

[১] এটি কিয়ামত দিবসে হবে। পাহাড় নিজ স্থানে থাকবে না বরং মেঘের মত চলতে ও উড়তে থাকবে।

[২] এটি হবে আল্লাহর বিশাল ক্ষমতার কারণে। যিনি প্রত্যেকটি জিনিসকে সুষম ও মজবুত বানিয়েছেন। কিন্তু তিনি ঐ সমস্ত মজবুত জিনিসগুলিকে ধূনিত তুলার ন্যায় করারও ক্ষমতা রাখেন।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর আপনি পর্বতমালা দেখছেন, মনে করছেন, সেটা অচল, অথচ ওগুলো হবে মেঘপুঞ্জের ন্যায় চলমান [১]। এটা আল্লাহ্‌রই সৃষ্টি-নৈপুণ্য, যিনি সমস্ত কিছুকেই করেছেন সুষম [২]। তোমরা যা কর নিশ্চয় তিনি সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

[১] উদ্দেশ্য এই যে, পাহাড়সমূহ স্থানচ্যুত হয়ে মেঘমালার ন্যায় চলমান হবে। এটা কিয়ামতের প্রথম ফুৎকারের সাথে সাথে হবে। অন্য আয়াতে এসেছে, “যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে প্রবলভাবে এবং পর্বত চলবে দ্রুত; [সূরা আত-তুরঃ ৯-১০] “তারা আপনাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, ‘আমার রব ওগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। ‘তারপর তিনি তাকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে, ‘যাতে আপনি বাঁকা ও উচু দেখবেন না।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১০৫-১০৭] ‘‘স্মরণ করুন, যেদিন আমি পর্বতমালাকে করব সঞ্চালিত এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন উন্মুক্ত প্রান্তর, সেদিন তাদের সবাইকে আমি একত্র করব এবং তাদের কাউকেও অব্যাহতি দেব না”। [সূরা আল-কাহফঃ ৪৭]

[২] صنع শব্দের অর্থ কারিগরবিদ্যা, শিল্প। কোন কিছু অপর কিছুর সাথে জুড়ে দিয়ে কিছু বানানো। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর] আর أتقن - শব্দটি إتقان থেকে উদ্ভুত। এর অর্থ কোন কিছুকে মজবুত ও সংহিত করা। [জালালাইন] বাহ্যতঃ এই বাক্যটি পুর্ববর্তী সব বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ দিবারাত্রির পরিবর্তন এবং শিঙ্গার ফুৎকার থেকে হাশর-নাশর পর্যন্ত সব অবস্থা। [ফাতহুল কাদীর] উদ্দেশ্য এই যে, এগুলো মেটেই বিস্ময় ও আশ্চর্যের বিষয় নয়। কেননা এগুলোর স্রষ্টা কোন সীমিত জ্ঞান ও শক্তিসম্পন্ন মানব অথবা ফিরিশতা নয়। বরং বিশ্বজগতের পালনকর্তা। আর যা তাঁর কাজ হবে সেটা অবশ্যই মজবুত ও সংহিত হবে। [কুরতুবী]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

আর তুমি পাহাড়সমূকে দেখছ, সেগুলোকে তুমি স্থির মনে করছ। অথচ তা মেঘমালার ন্যায় চলতে থাকবে। (এটা) আল্লাহর কাজ, যিনি সব কিছু দৃঢ়ভাবে করেছেন। নিশ্চয় তোমরা যা কর, তিনি সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে কর, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মত চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরী, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছ, তিনি তা অবগত আছেন।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

আর তুমি পাহাড়গুলোকে দেখছ, তাদের ভাবছ অচল-অনড়, কিন্ত তারা চলে যাবে মেঘমালার চলে যাবার ন্যায়। এ আল্লাহরই হাতের কাজ যিনি সব কিছুই সুনিপুণভাবে করেছেন। তোমরা যা কর সে-সন্বন্ধে নিঃসন্দেহ তিনি পূর্ণ-ওয়াকিফহাল।