Skip to main content

সূরা আল আনআম শ্লোক 6

أَلَمْ
কি নি
يَرَوْا۟
তারা দেখে
كَمْ
কত (জাতিকে)
أَهْلَكْنَا
ধ্বংস করেছি আমরা
مِن
থেকে
قَبْلِهِم
পূর্ব তাদের
مِّن
হতে
قَرْنٍ
মানবগোষ্ঠী
مَّكَّنَّٰهُمْ
আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম তাদের
فِى
মধ্যে
ٱلْأَرْضِ
পৃথিবীর (এমনভাবে)
مَا
যেমনটি
لَمْ
না
نُمَكِّن
আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি
لَّكُمْ
তোমাদেরকে
وَأَرْسَلْنَا
এবং আমরা পাঠিয়েছিলাম
ٱلسَّمَآءَ
আকাশ (থেকে)
عَلَيْهِم
উপর তাদের
مِّدْرَارًا
মুষলধারে বৃষ্টি
وَجَعَلْنَا
ও করেছিলাম আমরা
ٱلْأَنْهَٰرَ
নদীসমূহকে
تَجْرِى
প্রবাহিত
مِن
থেকে
تَحْتِهِمْ
নিচ তাদের(ভূমি)
فَأَهْلَكْنَٰهُم
অতঃপর আমরা ধ্বংস করেছি তাদের
بِذُنُوبِهِمْ
কারণে পাপের তাদের
وَأَنشَأْنَا
ও সৃষ্টি করেছি আমরা
مِنۢ
থেকে
بَعْدِهِمْ
পর তাদের
قَرْنًا
জাতিকে
ءَاخَرِينَ
অন্যান্য

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন:

তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তাদেরকে দুনিয়ায় (এমনভাবে) প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যে শক্তি-প্রতিষ্ঠা তোমাদেরকে দেয়া হয়নি, তাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিলাম, তৈরি করেছিলাম নদী যা তাদের নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হত, অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি আর তাদের পরে নতুন জনগোষ্ঠীর উত্থান ঘটালাম।

1 আহসানুল বায়ান | Tafsir Ahsanul Bayaan

তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, যাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যা তোমাদেরও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, আর তাদের পাদদেশে নদীমালা প্রবাহিত করেছিলাম। অতঃপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি[১] এবং তাদের পরে নূতন মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি। [২]

[১] অর্থাৎ, তোমাদের পূর্বেকার অনেক জাতিকে যখন তাদের পাপের কারণে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, অথচ তাদের শক্তি-সামর্থ্য তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী ছিল এবং সুখ-সমৃদ্ধি এবং জীবিকার উপায়-উপকরণাদির দিক দিয়েও তারা তোমাদের তুলনায় অনেক শ্রেষ্ঠ ছিল, তখন তোমাদেরকে ধ্বংস করা আমার জন্য কি কোন জটিল ব্যাপার? এ থেকে এ কথাও জানা গেল যে, কোন জাতির পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্য এবং দুনিয়ার সুখ-সমৃদ্ধির আতিশয্য (জাগতিক প্রগতি) দেখে এটা যেন মনে করে না নেওয়া হয় যে, তারা বড়ই সফল। এটা তো অবকাশ দেওয়ার বহু প্রকারের এমন এক প্রকার, যা পরীক্ষা স্বরূপ আল্লাহ বিভিন্ন জাতিকে দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন অবকাশের সময়-কাল শেষ হয়ে যায়, তখন যাবতীয় পার্থিব সফলতা এবং সুখ-সমৃদ্ধি তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে কোন কাজে আসে না।

[২] যাতে তাদেরকেও পূর্বের জাতিসমূহের ন্যায় পরীক্ষা করেন।

2 আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া | Tafsir Abu Bakr Zakaria

তারা কি দেখে না [১] যে, আমারা তাদের আগে বহু প্রজন্মকে [২] বিনাশ করেছি; তাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্টিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরকেও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। আর তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম; তারপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি [৩] এবং তাদের পর অন্য প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি [৪]।

[১] আলোচ্য প্রথম আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রত্যক্ষ সম্বোধিত মক্কাবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা কি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অবস্থা দেখেনি? দেখলে তা থেকে তারা শিক্ষা ও উপদেশ অর্জন করতে পারত। এখানে ‘দেখা’র অর্থ তাদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা। কেননা, সে জাতিগুলো তখন তাদের সামনে ছিল না। [আল-মানার]

[২] এ আয়াতে কাফেরদেরকে পূর্ববতী জাতিসমূহের ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “আমরা তাদের পূর্বে অনেক ‘করণ’ (প্রজন্ম)কে ধ্বংস করে দিয়েছি।” [সা’দী] (قرن) শব্দের অর্থ সমসাময়িক লোকসমাজ এবং সুদীর্ঘ কাল। দশ বছর থেকে একশ’ বছর পর্যন্ত সময়কাল অর্থেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। [বাগভী, কুরতুবী] কিন্তু (قرن) শব্দের অর্থ যে এক শতাব্দী, কোন কোন ঘটনা ও হাদীস থেকে এর সমর্থন পাওয়া যায়। এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে বুছরকে বলেছিলেনঃ ‘সে এক ‘করণ’ পর্যন্ত জীবিত থাকবে’। পরে দেখা গেল যে, তিনি পূর্ণ একশ’ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ ৪/১৮৯ ]

[৩] পূর্ববতী আয়াতসমূহে যারা আল্লাহর বিধান ও নবীগণের শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত কিংবা বিরোধিতা করত, তাদের প্রতি কঠোর শাস্তিবাণী উচ্চারিত হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতসমূহে এসব অবিশ্বাসীর দৃষ্টি পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রাচীনকালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রতি আকৃষ্ট করে তাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। [তাবারী, ইবন কাসীর] এ আয়াতে অতীত জাতিসমূহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে তাদেরকে এমন বিস্তৃতি, শক্তি ও জীবন ধারণের সাজ-সরঞ্জাম দান করেছিলেন, যা পরবতী লোকদের ভাগ্যে জুটেনি। কিন্তু তারাই যখন নবীগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল এবং আল্লাহর নিদর্শনের বিরুদ্ধাচরণ করল, তখন প্রভূত জাকজমক, প্রতাপ-প্রতিপত্তি ও অর্থসম্পদ তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারল না। তারা পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আজ মক্কাবাসীদেরকে সম্বোধন করা হচ্ছে। আদ ও সামূদ গোত্রের মত শক্তিবল তাদের নেই এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনবাসীদের অনুরূপ স্বাচ্ছন্দ্যশীলও তারা নয়। এসব অতীত জাতিসমূহের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং নিজেদের ক্রিয়াকর্মের পর্যালোচনা করে দেখা তাদের উচিত। বিরুদ্ধাচরণ করলে তাদের পরিণতি কি হবে, তাও ভেবে দেখা দরকার। [ইবন কাসীর, আইসারুত তাফাসীর, মুয়াসসার]

[৪] আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার শক্তি-সামর্থ্য শুধু প্রবল প্রতাপান্বিত, অসাধারণ জাকজমক ও সাম্রাজ্যের অধিপতি এবং জনবহুল ও মহাপরাক্রান্ত জাতিসমূহকে চোখের পলকে ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়ে যায় নি, বরং তাদেরকে ধ্বংস করার সাথে সাথে তাদের স্থলে অন্য জাতি সৃষ্টি করে সেখানে বসিয়ে দিয়েছে। সুতরাং মক্কাবাসীদের উচিত ভয় করা। [কুরতুবী, ইবন কাসীর]

3 আল-বায়ান ফাউন্ডেশন | Tafsir Bayaan Foundation

তারা কি দেখে না, আমি তাদের পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি? যাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেভাবে তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করিনি। আর তাদের উপর বৃষ্টি পাঠিয়েছিলাম মুষলধারে এবং সৃষ্টি করেছিলাম নদীসমূহ যা তাদের নীচে প্রবাহিত হত। অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদের পরে অন্য প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি।

4 মুহিউদ্দীন খান | Muhiuddin Khan

তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।

5 জহুরুল হক | Zohurul Hoque

তারা কি দেখে না -- তাদের আগে আমরা কত মানব-বংশকে ধ্বংস করেছি যাদের আমরা পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমন তোমাদেরও প্রতিষ্ঠিত করি নি? আর আমরা মেঘমালা পাঠিয়েছিলাম তাদের উপরে অজস্র বৃষ্টিপাত করতে, আর তাদের নিচে দিয়ে ঝরনারাজি প্রবাহিত হতে দিয়েছিলাম, তারপর তাদের ধ্বংস করেছিলাম তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের পরে পত্তন করেছিলাম অন্য এক মানব-বংশের।